মৌলিক বিষয়গুলির

মৌলিক বিষয়গুলির

১. ইকনোমিক ইনডিকেটর

ইকনোমিক ইনডিকেটর হচ্ছে প্রাইভেট এবং সরাসরি সংস্থার অর্থনৈতিক এবং ফাইনান্স্যিয়াল ডাটা প্রকাশনার টুকরো টুকরো খবর। এসকল স্ট্যাস্টিকস আমাদের মার্কেটের চালিকা দেখতে এবং তার সামান্য পরিবর্তনে প্রতিক্রিয়া দেখতে সহায়তা করে। ইকনোমিক রিলিজে সঠিকভাবে সাড়া দিতে প্রথমে আপনাকে স্ট্যাস্টিক্যাল রিপোর্ট এবং কারেন্সির এক্সচেঞ্জ রেটের সাথে সম্পর্ক কি তা বুঝতে হবে। এখন আমরা সবচেয়ে-প্রভাবশালী ইকনোমিক ইনডিকেটরের সাথে পরিচিত হবো এবং কারেন্সির ওপর তার প্রভাব ব্যাখ্যা করবো।

আউটপুট ইনডিকেটরঃ জিডিপি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন, রিটেইল সেলস। প্রকাশিত ডাটাতে কোন ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেলে তা এর ইঙ্গিত করে যে অর্থনীতির উন্নয়ন হচ্ছে। প্রকাশনা যদি শক্তিশালী হয়ে থাকে, তাহলে কারেন্সির ভ্যালু বৃদ্ধির আশা করতে পারেন।

সেন্টিমেন্ট ইনডিকেটরঃবিজনেস এন্ড কঞ্জুমার সেন্টিমেন্ট। এই গ্রুপের ইনডিকেটর ভোক্তা এবং বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের ব্যারোমিটার হিসেবে কাজ করে। তারা যতোবেশী খরচ/বিনিয়োগ করবে, জাতীয় অর্থনীতি এবং কারেন্সি ততো শক্তিশালী হবে।

লেবর মার্কেট ইনডিকেটরঃআনএমপ্লয়মেন্ট রেট, পেরোল, এমপ্লয়মেন্ট/আনএমপ্লয়মেন্ট চেঞ্জ, আনএমপ্লয়মেন্ট ক্লেইমস। এমপ্লয়মেন্ট যতো বেশী হবে, জাতীয় কারেন্সির জন্য তা ততো ভালো (আনএমপ্লয়মেন্টের বিপরীত)।   

হাউজিং মার্কেট ইনডিকেটরঃবিল্ডিং পারমিট/কনসেন্ট/অ্যাপ্রুভালস, হাউজিং স্টার্টস, নিউ/এক্সিস্টিং/পেন্ডিং হোম সেলস। হাউজিং মার্কেটে যদি অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বৃদ্ধির কোন সংকেত পাওয়া যায়, তারমানে হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতি ভালো করছে। এতে জাতীয় কারেন্সির এক্সচেঞ্জ রেট বৃদ্ধি পায়।

ইনফ্লেশনঃ সিপিআই, পিপিআই, ডব্লিউপিআই, আরপিআই। ইনফ্লেশন বৃদ্ধি জাতীয় কারেন্সির জন্য নেতিবাচক, আর কম ইনফ্লেশন হচ্ছে ভালো।শর্ট-টার্মে, সিপিআই এবং অন্যান্য ইনফ্লেশন ইনডেক্স কারেন্সির ওপর বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। ইনফ্লেশনের মাত্রা যদি লক্ষণীয় হারে বেড়ে যায় তাহলে তা সেন্ট্রাল ব্যাংককে ইন্টেরেস্ট রেট বাড়াতে বাধ্য করে। এর কাড়নে কারেন্সির এক্সচেঞ্জ রেট বেড়ে যেতে পারে।

ট্রেড ব্যালেন্স: দেশের মোট রপ্তানি বিয়োগ মোট আমদানীর পরিমান; >০ মানে সারপ্লাস, <০ মানে ঘাটতি। দেশের লেনদেন যখন বেশী থাকে, তখন বিদেশী ক্রেতাদের কাছে সেই কারেন্সির দাম বৃদ্ধি পায়, তথায় জাতীয় কারেন্সির মূল্যায়ন হয়। বিপরীতে, লেনদেনে ঘাটতি দেখা দিলে তার কাড়নে দেশের কারেন্সির ভ্যালু কমে।

কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স: এতে কোন দেশ এবং তাদের ট্রেডিং পার্টনারদের পণ্য, সেবা, ইন্টেরেস্ট এবং ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত সকল লেনদেনের ব্যালেন্স দেখায়; >০ মানে সারপ্লাস, <০ মানে ঘাটতি। ঘাটতির মানে হচ্ছে দেশটি আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশী করছে, এবং ঘাটতি কমাতে দেশটি বিদেশী থেকে অর্থ ধার করছে। জাতীয় কারেন্সির ওপর এর প্রভাব নেগেটিভ। সারপ্লাস, অন্যদিকে, কারেন্সির ওপর পজিটিভ প্রভাব ফেলে।

২. সেন্ট্রাল ব্যাংকের মনেটারি পলিসি

ইন্টেরেস্ট রেট। সকল মেজর ব্যাংক তার মূল রিফাইনান্সিং রেট নির্ধারিত করে দেয়। এখানে দুই ধরনের পলিসি রয়েছেঃ ইজিং (easing) (অর্থনীতির যদি সহায়তার প্রয়োজন হয় তাহলে ইন্টেরেস্ট রেট কমানো। কারেন্সির ওপর এর প্রভাব নেগেটিভ) এবং কষানো (tightening) (ইন্টেরেস্ট রেট বাড়ানো যাতে বাড়তি ইনফ্লেশন রেট কমে আসে; এর প্রভাব কারেন্সির ওপর পজিটিভ)।

বন্ড পারচেস। মাঝেমাঝে সেন্ট্রাল ব্যাংক তাদের প্রচুর পরিমাণে সরকারী বন্ড ক্রয়ের আশ্রয় নেয় যাতে তারা অর্থ সঞ্চলন বাড়াতে পারে; একাজ করে তারা ধারকে সস্তা এবং অর্থনীতির উন্নয়ন বৃদ্ধি করে।  এসকল অস্বাভাবিক মনেটারি কার্যকলাপ কারেন্সির ভ্যালু কমিয়ে ফেলে। সেন্ট্রাল ব্যাংকের বন্ড পারচেস যা মানি সাপ্লাই বারিয়েদেয় তাকে কোয়ান্টিটিভ ইজিং (কিউই) নামে চেনা হয়ে থাকে।

3. গভমেন্টস ফিসক্যাল হেলথ বাজেট ব্যালেন্স এন্ড ডেবট। দেশ যদি অতিরিক্ত ঋণে জর্জরিত হয়, তাহলে তা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে কম আকর্ষণীয় হয়, কারন সরকারী ঋণ ইনফ্লেশন বৃদ্ধি করে। এরসাথে, বেশী বড় ঋণ বিদেশীদের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাড়াতে পারে যদি তারা এই আশংকা করে যে দেশটি খেলাপির দিকে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দেশের কারেন্সির চাহিদা কমবে এবং তার এক্সচেঞ্জ রেট পড়ে যাবে।

৪. নিউজ ফ্লো

  • রাজনৈতিক সামাজিক এবং অন্যান্য খবর।
  • আইএমএফ, OECR, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থনৈতিক ফোরকাস্ট।
  • মুডিস, ফিচ, এসএন্ডপি এবং অন্যান্য সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রেডিট রেটিঙে পরিবর্তন।

বিদেশী বিনিয়োগকারীরা রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল দেশ খুঁজে বেড়ায়। এজন্য রাজনৈতিক আন্দোলন এবং অস্থিরতার খবরাখবর দেশে বিনিয়োগে অনাগ্রহী করে তোলে। এরফলে, বিদেশী বিনিয়োগ উঠে যাওয়াতে দেশের কারেন্সির মূল্য কমে যায়।   মাঝেমাঝে রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল দেশগুলোও সামাজিক বিশৃঙ্খলা, সরকারী রদবদল এবং গুরুত্বপূর্ণ সংবিধানিক পরিবর্তন জাতীয় সমস্যার সম্মুখীন হয়। এসকল ইভেন্ট কারেন্সির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচন অথবা গণভোটের অপ্রত্যাশিত ফলাফল বড় ধরনের ভলাটিলিটি তৈরি করতে পারে (মনে আছে ট্রাম্পের বিজয় অথবা ইউকের "বেরনোর" ভোটের ফলাফলের কথা। দেশের নেতাদের রাজনৈতিক বিবৃতি, সেন্ট্রাল ব্যাংকের পরিচালকের পাবলিক এঙ্গেজমেন্ট কারেন্সির প্রাইসে ওঠানামা করাতে পারে।

বিভিন্ন ধরনের খবরের কারনেও কারেন্সির এক্সচেঞ্জ রেটে লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। আমরা  আইএমএফ, OECR, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ইকনোমিক ফোরকাস্ট, মুডিস, এসএন্ডপি, এবং অন্যান্য সার্বভৌম প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট রেটিঙে পরিবর্তনের কথা বলছি।

অবশেষে, একেবারে অপ্রত্যাশিত কিছু খবর যেমন ভূমিকম্প এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এসকল ইভেন্ট অর্থনীতির জন্য ধ্বংসাত্মক এবং, এরফলে, এক্সচেঞ্জ রেটের জন্যও। কিন্তু, এর সম্পর্ক সর্বদা এতো সোজা নয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০১১ সালে জাপানে ভূমিকম্পের কাড়নে জাপানী ইয়েন শক্তিশালী হয়েছিলোঃ এর কারন ছিলো বিনিয়োগকারীরা ইয়েনকে সুরক্ষিত, বিশ্বস্ত কারেন্সি হিসেবে দেখছিলো এবং তখন তা বেড়েছিল যখন মার্কেটে ঝুঁকি অতিমাত্রার ছিলো। 

জনপ্রিয়

ইউকে সিপিআই

১৭ই অক্টোবর এমটি সময় ১১:৩০ মিনিটে ইউকে তার সিপিআই ডাটা প্রকাশিত করবে।

ইসিবি মিটিং

২৬শে অক্টোবর ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের মিটিঙের জন্য ট্রেডাররা অধীরভাবে অপেক্ষা করছে। এমটি সময় ১৪:৪৫ মিনিটে নিয়ন্ত্রকরা তাদের মনেটারি পলিসির সিদ্ধান্ত প্রকাশিত করবে। ইসিবির সভাপতি মারিও দ্রাঘি এমটি সময় ১৫:৩০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহন করবেন। 

আরবিএ মিটিং

AUD এর জন্য রিজার্ভ ব্যাংক অফ অস্ট্রেলিয়ার (আরবিএ) পলিসি হচ্ছে একটি মূল চালিকা। এর নিয়ন্ত্রকরা আবারো তাদের মনেটারি পলিসির সিদ্ধান্ত প্রদান করবে ৭ই নভেম্বর এমটি সময় ০৫:৩০ টায়। 

যেসকল প্রোমোশনে আপনার আগ্রহ থাকতে পারে

লোকাল পেমেন্ট সিস্টেম দিয়ে ডিপোজিট করুন

কলব্যাক

ম্যানেজার শীঘ্রই ফোন দেবে।

নম্বর পরিবর্তন করুন

আবেদন গ্রহন হয়েছে

ম্যানেজার শীঘ্রই ফোন দেবে।

অভ্যান্তরীন ত্রুটি দেখা দিয়েছে। অনুগ্রহ করে কিছুক্ষণ পরে আবার চেষ্টা করুন